কলকাতা, ৪ মার্চঃ খাবারে ভেজাল ও কৃত্রিম রঙের ব্যবহার রুখতে রাজ্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করল হাইকোর্ট। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল আদালতে। অভিযোগে বলা হয়, কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ফল, রাস্তার খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও মিষ্টিজাত খাদ্যে ভেজাল ও পানীয়তে কৃত্রিম রঙের ব্যবহার বাড়ছে, যার ফলে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল-এর ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের তরফে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করা হয়। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আদালত সন্তোষ প্রকাশ করে এবং মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করে।
আদালতে রাজ্যের কৌঁসুলি জানান, ২০১৯ সালে খাদ্য সুরক্ষা সূচকে পশ্চিমবঙ্গের স্থান ছিল ১৫তম। বর্তমানে সেই অবস্থান থেকে উঠে এসে রাজ্য দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে পৌঁছেছে। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে জেলা, পুরসভা ও ব্লক স্তরে মোট ১৭৬ জন ফুড সেফটি অফিসার কাজ করছেন। জেলাগুলিতে রয়েছেন ২৮ জন আধিকারিক এবং ৩ জন রাজ্য খাদ্যদ্রব্য তদন্তকারী আধিকারিক। নিয়ম অনুযায়ী, ফুড সেফটি অফিসাররা প্রতি মাসে ন্যূনতম ২৫টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠান।
রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়, বর্তমানে ৩০টি চলমান পরীক্ষাগার রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে খাদ্যের গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি নতুন মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব চালু হয়েছে এবং আরও তিনটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাগার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্বাস্থ্য দপ্তরকে এ বিষয়ে সদা তৎপর থাকতে হবে। খাদ্য ব্যবসায়ীদের কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করতে হবে, যাতে খাদ্য সুরক্ষার কাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারে।





