কলকাতা, ৯ আগস্টঃ দীর্ঘ জেরার শেষে ভবানী ভবন থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে সিআইডির জেরার মুখোমুখি হওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়েই সোজা চলে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তদন্তকারীরা তাঁকে কী কী প্রশ্ন করলেন, কী তথ্য মিলল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের খবর, শনিবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় শুক্রবার রাতে সিআইডির নোটিস পেয়েছিলেন সুমিত। সেই তলবে সাড়া দিয়ে শনিবার নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছন তিনি। সঙ্গে ছিল সুপ্রিম কোর্টের জামিনের রক্ষাকবচ। যদিও সেই জামিন শুধুমাত্র জমি দুর্নীতি মামলাতেই। শর্ত, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই সিআইডির মুখোমুখি হন তিনি।
সুমিতের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। এর মধ্যে শালবনির জমি দুর্নীতি মামলাটি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির টাকা হাতঘুরে তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। যদিও মামলায় সরাসরি অভিষেকের নাম নেই, সুমিতের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বার বার প্রশ্ন উঠেছে।
সুমিতের নাম আরও সামনে আসে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্রেই তদন্তের পরিধি বাড়ে।
মাসখানেক আগে সুমিতের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতেও পৌঁছেছিল পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশি সত্ত্বেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিস জারি হয়।
এর পরেই আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপাতত তদন্তে হাজির হচ্ছেন তিনি। প্রথম দিনের জেরা শেষ, কিন্তু তদন্তের প্রশ্ন শেষ হয়নি। আগামী দিনের জেরায় কী তথ্য উঠে আসে, এখন নজর সেদিকেই।





