মনিরুল হক, কোচবিহারঃ কোচবিহারের শীতলকুচিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হরিহর দাসের সমর্থনে বিশাল জনসভা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে আয়োজিত এই সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি এবং আসন্ন নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের ডাক দেন।
সভা শুরুতেই সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর দাবি, শীতলকুচি এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। সেই পরিসংখ্যানের উপর ভর করেই আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিধানসভা নির্বাচনেও একই ছবি দেখা যাবে।
জনসমুদ্রের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেক বলেন, “আজ এখানে যত মানুষ এসেছেন, তাঁরা যদি ২৩ তারিখ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন, তাহলে আগামী ১০ বছরে এই শীতলকুচির মাটিতে বিজেপির কোনও নেতাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।” বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, “যারা মাঠে রয়েছে তারা যদি ভোট দেয়, তাহলে আগামী দিনে বুথে বুথে এদের অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
বিজেপির ‘রক্তচক্ষু’ উপেক্ষা করে গত পাঁচ বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানান অভিষেক। তিনি বলেন, “আমার ভাই-বোনেরা প্রবল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলে শীতলকুচিতে তৃণমূলকে শক্তিশালী করেছে।” তাঁর কথায়, “শীতলকুচির মাটি বশ্যতা বিরোধী, এই মাটি কারও কাছে মাথা নত করে না।”
এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকেও নিশানা করেন তিনি। আগামী ৫ তারিখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সম্ভাব্য সফরের আগে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তোলেন অভিষেক। তাঁর চ্যালেঞ্জ, গত পাঁচ বছরে আবাস যোজনা বা ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্র যদি কোচবিহারের মানুষের জন্য ১০ পয়সাও দিয়ে থাকে, তা প্রমাণ করতে হবে।
অভিষেক স্পষ্ট করে বলেন, “যদি প্রমাণ করতে পারেন, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব, তৃণমূলের হয়ে আর ভোট চাইতে আসব না।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে শীতলকুচির এই জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক সুরে বার্তা দিল তৃণমূল নেতৃত্ব, যা নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





