খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩১ জুলাইঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নতুন পদ্ধতি নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, শুধু নিরপেক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়, সেই নিরপেক্ষতা মানুষের কাছেও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে সর্বোচ্চ আদালত। নতুন আইনে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য গঠিত তিন সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আগে এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত মন্ত্রীর পরিবর্তে থাকতেন দেশের প্রধান বিচারপতি। সেই পরিবর্তন নিয়েই আপত্তি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা।
শুনানিতে আদালত জানতে চায়, যখন সিবিআই প্রধান বা লোকপাল নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও প্রধান বিচারপতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারেন, তখন নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁকে বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী।
কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, শুধুমাত্র কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা অসৎ উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন, এমন ধারণা করা ঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর পদ একটি সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতীক। সেই পদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অযথা সন্দেহ তৈরি হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টির সাংবিধানিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এটি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো উচিত।
তবে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি কোনও ব্যক্তি বা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থার প্রশ্ন নয়। তাঁর কথায়, বর্তমান কমিটির গঠন এমন যে হিসাব দাঁড়াচ্ছে দুই বনাম এক দুই সদস্য কার্যত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন, আর বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি মাত্র একজন। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতার বহিঃপ্রকাশ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
বিচারপতি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনার এমন একজন হওয়া উচিত, যাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও সংশয় না থাকে। আদালত বলছে না যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে না, কিন্তু সেই নিরপেক্ষতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাঠামোতেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
মামলার পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্রকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এই মামলার রায় যে সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব বহন করতে পারে, তা মনে করছে আইন মহল।





