কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ ছ’বছর আগের সেই ছবি এখনও রাজ্য রাজনীতিতে চর্চিত। ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর, নেতাদের গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে সেই মামলার তদন্তে এ বার গ্রেপ্তার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা ইমরান হাসান। বুধবার গভীর রাতে দেউলা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে উস্তি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ইমরান মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার যুব তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগে বিজেপি নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়া, তাঁদের উপর অত্যাচার এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার সূত্র ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে যাচ্ছিলেন নাড্ডা। তাঁর কনভয়ে ছিলেন দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক সদস্য। অভিযোগ, সরিষা থেকে ফলতার পথে বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও লাঠি ছোড়া হয়। দিলীপ ঘোষের গাড়ি ভাঙচুর এবং কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র আহত হওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। ঘটনাকে ঘিরে তৎকালীন রাজ্য সরকার ও শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বিজেপি।
রাজ্যে পালাবদলের পর পুরনো মামলাটির তদন্তে নতুন করে গতি আসে। একে একে গ্রেপ্তার হন মগরাহাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৌসিফ আহমেদ মোল্লা ওরফে বাচ্চু, আরিফ হোসেন এবং আনিসুর রহমান। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে সঞ্জীব মণ্ডল ও রিপনের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পরে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি এই মামলায় গ্রেপ্তার হন জাহাঙ্গির খান। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল ইমরানের নাম।
ছ’বছর আগের রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে তদন্তে একের পর এক গ্রেপ্তারি নতুন করে আলোচনায়। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, হামলার নেপথ্যে কী ভূমিকা ছিল তা খতিয়ে দেখছে উস্তি থানার পুলিশ।





