মালদা, ৫ নভেম্বরঃ প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, প্রসবের সময় হয়নি বলে ভর্তি নেননি চিকিৎসকেরা। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফুটপাত পেরিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল সরকারি রাত্রিনিবাসে। সেখানেই রাত আড়াইটে নাগাদ কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি। বুধবার রাতের এই ঘটনায় মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজোলের রানিগঞ্জের বাসিন্দা শ্রাবন্তী টুডুকে বুধবার রাতে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে মালদা মেডিক্যাল কলেজের মাতৃমা বিভাগে নিয়ে আসেন পরিজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রসবের সময় হয়নি জানিয়ে তাঁকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেন। ফলে নিরুপায় হয়ে প্রথমে জরুরি বিভাগের সামনের ফুটপাতে অপেক্ষা করেন পরিবারের সদস্যেরা। পরে আশ্রয় নেন জরুরি বিভাগের পাশের সরকারি রাত্রিনিবাসে।
কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। রাত আড়াইটে নাগাদ সেখানেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন শ্রাবন্তী। তাঁর স্বামী সমীরণ ভুঁইমালি পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর মা ও সদ্যোজাতকে রাত্রিনিবাসের দোতলা থেকে বস্তায় করে নিচে নামাতে হয়। হাসপাতাল থেকে একটি ট্রলিও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য শ্রাবন্তীকে মাতৃমা বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর আত্মীয়েরা। তাঁদের বক্তব্য, চিকিৎসকেরা যদি মনে করে থাকেন প্রসবের সময় হয়নি, তা হলে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণে না রেখে কেন ফিরিয়ে দেওয়া হল? ভর্তি না নেওয়ার মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যে কী ভাবে সন্তানের জন্ম হল? প্রসবের পরে মা ও সদ্যোজাতকে কেন এ ভাবে নামাতে হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার কথা স্বীকার করে হাসপাতালের সুপার তথা সহ-অধ্যক্ষ গণেশচন্দ্র গাইন জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “এমন অমানবিক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।”
এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রোগীর পরিবার। হাসপাতালের মতো জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার জায়গায় প্রসূতি ও সদ্যোজাতের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা ফের একাধিক প্রশ্ন সামনে এনে দিল।





