কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ মসজিদের নাম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদে বাবর নামাঙ্কিত মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা ঘিরে এত দিন যে অনড় মনোভাব দেখিয়ে এসেছেন তিনি, বৃহস্পতিবার সকালে তাতেই কার্যত সুর নরম করলেন। জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যদি বাবরের নামে মসজিদ তৈরিতে আপত্তি জানান, তবে তাঁর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে হবে। হুমায়ুনের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গড়ে ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন হুমায়ুন। সেই সময় থেকেই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করে আসছিলেন তিনি। শুধু ঘোষণাতেই থেমে থাকেননি, মসজিদ নির্মাণের কাজও শুরু হয়। গত ২ নভেম্বর বেলডাঙায় প্রস্তাবিত মসজিদ চত্বরে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংক্রান্ত সভায় আরও এক ধাপ এগিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন হুমায়ুন। জানিয়েছিলেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন জাতীয় সড়ক অবরোধ করবেন। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে তা আটকে দেখাক বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন তিনি।
এর পরেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুর্শিদাবাদের কোনও কৃতী ব্যক্তির নামে মসজিদ তৈরি করতে আপত্তি নেই। কিন্তু বাবরের নামে মসজিদ হলে তার জন্য কোনও পরিকল্পনা বা অনুমোদন মিলবে না। এই মর্মে জেলার জেলাশাসককে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পরেই বৃহস্পতিবার সকালে সুর বদল হুমায়ুনের। তাঁর কথায়, “উনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। যদি বাবরি নাম না চান, তাঁর ইচ্ছাকে মান্যতা দিতেই হবে।” অর্থাৎ, এত দিন যে নামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছিলেন, এবার সেই নামের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন বিধায়ক।
হুমায়ুনের এই অবস্থান বদল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, “বাবরি মসজিদ তো হবেই না। ও দিনে কিছু বলেন, রাতে অন্য কিছু বলেন। পাগলের প্রলাপ।” হুমায়ুনের অতীতের নানা মন্তব্য টেনে তাঁর আরও কটাক্ষ, “বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেন। আমার প্রতিক্রিয়ার কোনও মূল্য থাকে না তখন।”
বাবরি নামকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে হুমায়ুনের এই নতুন বার্তা তাই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে নাম বদল বা মসজিদ নির্মাণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আর কী অবস্থান নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





