বীরভূম, ৫ নভেম্বরঃ রাজনৈতিক সভার খবর সংগ্রহ করাই কি কাল হল সাংবাদিকের? সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সভার খবর করে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হলেন সংবাদ প্রতিদিনের চিত্রসাংবাদিক সুশান্ত পাল। অভিযোগ, বুধবার রাতে ময়ূরেশ্বরের ঘোষপাড়া এলাকায় তাঁর পথ আটকে ৮-৯ জনের একটি দল বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ভাঙচুর করা হয় তাঁর গাড়ি। ছিনিয়ে নেওয়া হয় মানিব্যাগ, প্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং নগদ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এই ঘটনায় বীরভূমের ময়ূরেশ্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সুশান্তবাবু রামপুরহাট মহকুমার চিত্রসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ, বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ কাজ সেরে ময়ূরেশ্বর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় ঘোষপাড়া এলাকায় তাঁর পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। আক্রান্তের দাবি, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সভার খবর সংগ্রহ করতে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে প্রথমে তাঁকে হেনস্থা করা হয়। এর পর কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা।
অভিযোগ, মাথায় রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে হেলমেট থাকায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান সুশান্ত। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁর মাথা থেকে জোর করে হেলমেট খুলে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। চলে মারধর। ভাঙচুর করা হয় তাঁর গাড়িতেও। মানিব্যাগ, প্রেসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পকেটে থাকা প্রায় ৫৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
সুশান্তের আরও দাবি, এর আগেও গত ১ নভেম্বর মীনাক্ষীর সভায় যাওয়ার আগে তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। খবর সংগ্রহ না করার জন্য চাপও দেওয়া হয়। সেই ঘটনার সঙ্গে বুধবারের হামলার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে বাসুদেব ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ময়ূরেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। রানা ঘোষ, রাজু দাস, উত্তম ঘোষ ও লোকনাথ বাগদির নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগে। অভিযোগের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং রামপুরহাটের এসডিপিও-কেও।
ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।





