কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ কয়লা ও পাথর পাচারের কারবারে কি ব্যবহার করা হত আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক? পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে বেঙ্গল এসটিএফের পরপর দু’টি অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঘিরে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। এসটিএফের দাবি, কয়লা পাচারের কাজে ব্যবহার করা হত উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি। দুই জেলার এই অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন তিন জন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস এবং সরবরাহের নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মাসখানেক আগে জামুড়িয়া এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ শেখ খাইরুল ও শেখ সামসের নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তে উঠে আসে আরও কয়েকটি নাম। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের জাল বিস্তার করেন গোয়েন্দারা। বুধবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের দান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৫টি কার্তুজ। গ্রেফতার করা হয় শেখ শাহজাহানকে।
অন্য দিকে, বীরভূমের মুরারই থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকের বিপুল ভান্ডারের হদিস পান এসটিএফ আধিকারিকেরা। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ১১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ১০৬৪টি ডিটোনেটর-সহ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক সামগ্রী। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ রেজা শেখ ও মুকেশ সিংকে।
এসটিএফের এসপি সিদ্ধার্থ ধাবলার দাবি, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন জায়গায় সেগুলি সরবরাহ করা হত। কয়লা ও পাথর খাদান থেকে পাচারের কারবারে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক চক্রের যোগ রয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের।
দুই জেলার এই অভিযানের পর এখন গোয়েন্দাদের নজরে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সরবরাহ-শৃঙ্খল। এই কারবারের পিছনে আরও কারা রয়েছে, কোথায় কোথায় অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হত, তার খোঁজ চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের মাথাদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করছেন এসটিএফ আধিকারিকেরা।





