কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ কলকাতার রামলীলা ময়দানে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে। ভোটচুরি-বিরোধী আন্দোলনের সেই ছবি ঘিরেই রাজ্যের রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল তবে কি আসন্ন পুরভোটে বাংলাতেও এক মঞ্চে দেখা যাবে তৃণমূল ও বামেদের? সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢালল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও নির্বাচনী সমঝোতায় যাবে না বামেরা। তবে কংগ্রেসের জন্য আলোচনার দরজা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
বুধবারের বৈঠকে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাম নেতৃত্ব। জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চে তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের অবস্থান থাকলেও, বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ আলাদা এই বার্তাই দিতে চাইছে আলিমুদ্দিন। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর কথায়, “আমাদের পার্টির অবস্থান স্পষ্ট। জাতীয় স্তরে বিজেপিকে ঠেকাতে ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে তা হবে না।” সিপিআই নেতা প্রবীর দেবের বক্তব্যেও একই সুর। তৃণমূলের সঙ্গে জোটের কোনও প্রশ্নই নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না বাম শিবির। যদিও অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠ কংগ্রেসের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যেতে নারাজ। প্রদেশ কংগ্রেসের অন্য একটি অংশের আপত্তি না থাকলেও, শুভঙ্কর সরকার ঘনিষ্ঠ সেই শিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। ফলে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার ছবিও এখনও স্পষ্ট নয়।
কলকাতা পুরসভাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বামফ্রন্ট। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের জেরে পুরসভার আসনসংখ্যা বেড়ে ২০৯ হওয়ায় শরিক দলগুলির মধ্যে নতুন করে আসন ভাগাভাগি করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই শুরু হবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। সূত্রের খবর, প্রথমে শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করে প্রার্থী তালিকা তৈরির পথে হাঁটবে বাম শিবির। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার কথা মাথায় রেখে কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে সেই সমীকরণ চূড়ান্ত হতে পারে।
জেলা কমিটিগুলির হাতেই প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব ছেড়েছে সিপিএম। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে কোথাও একক লড়াই, কোথাও আবার বিরোধী ভোটের বিভাজন ঠেকাতে সমঝোতার রাস্তা খোলা রাখা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের জন্য কোনও আসন ছাড়ার প্রশ্ন নেই।
বিধানসভা নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরভোট বামেদের কাছে শুধু স্থানীয় ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, সংগঠন পুনর্গঠন এবং বিরোধী রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা ফিরে পাওয়ার পরীক্ষাও। কংগ্রেসের জন্য দরজা খোলা রেখে তৃণমূলকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তে সেই কৌশলই স্পষ্ট।





