আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

জমির জট নয়, আলোচনাতেই শিল্পের জমি, নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের স্মৃতি উস্কে বাম-তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর

Published on: November 5, 2026
---Advertisement---

কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ পালাবদলের পর বাংলায় শিল্পের পরিবেশ বদলানোর দাবি করছে নতুন সরকার। এবার সেই লক্ষ্যেই নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা। ‘কথা কম, কাজ বেশি’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই মন্ত্রকে সামনে রেখে রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। শিল্পের পথে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজের বাধা সরানোর পাশাপাশি জমি নিয়ে পুরনো জটিলতা এড়ানোই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। বৃহস্পতিবার ইকো পার্কে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬ প্রকাশের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, শিল্পের হাত ধরেই কর্মসংস্থানের নতুন দিশা খুঁজতে চাইছে রাজ্য।

শুধু কলকাতা বা কয়েকটি শিল্পাঞ্চল নয়, গোটা রাজ্যকেই বিনিয়োগের মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শুভেন্দুর কথায়, পাহাড় থেকে সাগর পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলা এক একটি রত্ন। সেই সম্ভাবনাকেই শিল্পের অন্যতম হাতিয়ার করে তুলতে হবে। অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গের উপকূল প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সম্পদ, পরিকাঠামো ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পের পরিসর বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।

তবে বিনিয়োগের পথে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জমি। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতা এখনও রাজ্যের শিল্পনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যে তাঁর সরকার চায় না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, জমিদাতাদের মতামত ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জোর করে জমি অধিগ্রহণ নয়, আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমেই জমির ব্যবস্থা করতে চায় সরকার।

এই প্রসঙ্গেই বাম আমলের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে বাম ও তৃণমূল দুই শিবিরকেই একযোগে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই এগোতে হবে। শিল্পের জন্য জমি প্রয়োজন, কিন্তু সেই জমি সংগ্রহের পদ্ধতিতে কৃষক ও জমির মালিকদের আস্থা অর্জন করাও জরুরি।

নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগে উৎসাহ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সরল করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের দাপট বন্ধের দাবির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির কথাও বলছে সরকার।

শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আশার কথা শোনানো সহজ, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে পরিণত করাই এখন আসল পরীক্ষা। জমিদাতার আস্থা, শিল্পপতির ভরসা এবং কর্মপ্রার্থীর হাতে কাজ এই তিনের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই নয়া শিল্পনীতির সার্থকতা প্রমাণিত হবে।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment