কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ ভোটের প্রচারে বিজেপির স্লোগান ছিল ‘ভরসা ইন, ভয় আউট’। ক্ষমতার পালাবদলের পর এ বার সেই বার্তাই শিল্পক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অন্তত বৃহস্পতিবার ইকো পার্কে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের মঞ্চে শিল্পপতিদের কথায় তেমনই ইঙ্গিত মিলল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় তাঁদের একাংশের দাবি, রাজ্যে এখন আর আগের মতো তোলাবাজির সমস্যা নেই। শিল্পের পরিবেশে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। আর সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, শিল্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিন্ডিকেটরাজ ও তোলাবাজির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। ছোট ব্যবসা থেকে বড় শিল্প বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দাপট নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিজেপির অভিযোগ ছিল, এই সংস্কৃতিই রাজ্যে বিনিয়োগের পথে বড় বাধা। ক্ষমতায় এসে সেই পরিস্থিতি বদলানোর দাবি করছে নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার শিল্পপতিদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই প্রসঙ্গ।
শিল্পমহলের স্বস্তির কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট করেন, তোলাবাজির পুরনো সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, আগে পান-সুপারি থেকে বড় শিল্প সর্বত্রই সিন্ডিকেটের দাপট ছিল। এখন তা বন্ধ হয়েছে। তবে কোথাও কোনও শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী তোলাবাজির মুখে পড়লে সরকার তাঁর পাশে দাঁড়াবে। অভিযোগ জানানোর জন্য নির্দিষ্ট নম্বর চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শুধু তোলাবাজি বন্ধ করলেই যে শিল্পের জোয়ার আসবে না, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের যেমন স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করতে হবে, তেমনই প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও স্বচ্ছতা ও আস্থা থাকা জরুরি। শিল্প ছাড়া রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়, কর্মসংস্থান বাড়াতেও বিনিয়োগের বিকল্প নেই।
আগের সরকারের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন এবং বিদেশে লগ্নি আনার উদ্যোগ নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এত আয়োজন সত্ত্বেও প্রত্যাশিত শিল্প আসেনি রাজ্যে।
নতুন শিল্পনীতি, জমি সংক্রান্ত পরিকল্পনা এবং তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে ঘোষণার বাইরে বাস্তবে কতটা বদলায় শিল্পের পরিবেশ, তার উত্তর দেবে আগামী দিনের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান।





