আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

জমির জট কাটিয়ে লগ্নির পথ প্রশস্ত, পাঁচ দশক পর শিল্পে নতুন আশায় বাংলার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার

Published on: November 5, 2026
---Advertisement---

কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ শিল্পের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জট, বিনিয়োগে অনীহা এবং কর্মসংস্থানের ঘাটতি এই তিন সমস্যাকে একসঙ্গে মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার ইকো পার্ক থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ বদলানোই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নীতির কেন্দ্রে রয়েছে জমি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান। সঙ্গে রয়েছে শিল্পসংস্থাগুলিকে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা ও ইনসেনটিভ দেওয়ার পরিকল্পনা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-সহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন নীতিতে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিষেবা ক্ষেত্র এমনকি অলাভজনক সংস্থার জন্যও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। কয়েক বছর আগে বাতিল হওয়া শিল্পক্ষেত্রের ইনসেনটিভ ব্যবস্থাও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বিদ্যুৎ শুল্ক ও স্ট্যাম্প ডিউটিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকছে। ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর যে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী আগেই দিয়েছিলেন, নতুন নীতিতে তার প্রতিফলন রয়েছে।

তবে শিল্পনীতির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে জমি সংক্রান্ত পরিকল্পনা। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জোর করে জমি অধিগ্রহণের বদলে জমির মালিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে বাজারমূল্যে জমি কেনার পথেই হাঁটতে চাইছে সরকার। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের নেতৃত্বে মন্ত্রীগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। জমিনীতি তৈরির প্রাথমিক খসড়াও প্রস্তুত বলে জানা গিয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় অনলাইনে শিল্পপ্রস্তাব জমা পড়ার পর ১০৫ দিনের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষা কমবে বলে আশা সরকারের। পাশাপাশি রুগ্ন শিল্প পুনরুজ্জীবনের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জমি বরাদ্দের পর তা ফেলে রাখার প্রবণতা রুখতে কড়া ব্যবস্থার ইঙ্গিতও রয়েছে।

শিল্পের জন্য জমি, বিনিয়োগে উৎসাহ এবং দ্রুত অনুমোদন এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে নতুন নীতি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করছে বাংলার শিল্প-ভবিষ্যৎ। ঘোষণার পর এখন শিল্পমহলের নজর বাস্তব পদক্ষেপের দিকে।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment