কলকাতা, ১৬ জুলাই: একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল পোস্টার-রাজনীতিতে। একই দিনে প্রকাশ পেল দুই শিবিরের পৃথক সমাবেশের পোস্টার। একদিকে কালীঘাট-তৃণমূলের শহিদ স্মরণ কর্মসূচি, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের ‘আসল তৃণমূল’-এর সমাবেশ। আর সেই দুই পোস্টার ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি মেলার পর বুধবার কালীঘাট-তৃণমূল একুশে জুলাইয়ের সভার নতুন পোস্টার প্রকাশ করে। পরে সেই পোস্টার সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পোস্টারে নজর কেড়েছে অন্য বিষয়। সেখানে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই রাখা হয়েছে। নেই অভিষেকের ছবি। এমনকি বক্তাদের তালিকাতেও তাঁর নাম নেই। পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম চলুন’।
এই পরিবর্তনকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা। কারণ, মাত্র তিন দিন আগে প্রকাশিত প্রথম পোস্টারে মমতার পাশে স্পষ্টভাবেই ছিল অভিষেকের ছবি। সেখানে ‘কলকাতা চলো’ স্লোগান দিয়ে কর্মীদের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমতি মেলার পর প্রকাশিত নতুন পোস্টার থেকে অভিষেকের অনুপস্থিতি নানা প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে একুশে উপলক্ষে নিজেদের সমাবেশের পোস্টার প্রকাশ করেছে ঋতব্রত শিবিরও। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভার অনুমতি পাওয়ার পর প্রকাশিত ওই পোস্টারে রয়েছে জোড়াফুল প্রতীক। সভাপতি হিসেবে নাম রয়েছে অরূপ রায়ের। তবে কোনও নেতার ছবি ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন মনীষীর ছবি।
রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে চলা টানাপোড়েনের আবহে এই দুই পোস্টারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে অভিষেককে ঘিরে জল্পনা, অন্যদিকে ‘আসল তৃণমূল’-এর শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে এ বারের একুশে জুলাই যে শুধুই শহিদ স্মরণের মঞ্চ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তার লড়াইয়ের ক্ষেত্রও হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।





