কলকাতা, ১৬ জুলাইঃ দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজোর মঞ্চ থেকে রাজ্যে মৌলবাদের প্রসঙ্গ তুলে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলার পরিস্থিতি ক্রমশ বাংলাদেশের মতো হয়ে উঠছে। সেখানে যেমন হিন্দুদের ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া হয়, এ রাজ্যেও তেমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোকে ‘পুজো’ নয়, ‘উৎসব’ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগও তোলেন বিজেপি নেতা।
বৃহস্পতিবার রথযাত্রার সকালে কলেজ স্কোয়ারে দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন শমীক। সেখানেই তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দুর্গাপ্রতিমা ভাঙা হয়, ঘট তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গাতেও এমন নিদান দেওয়া হচ্ছে প্রদীপ জ্বালানো যাবে, কিন্তু শাঁখ বাজানো যাবে না। মরদেহ দাহ করা যাবে, কিন্তু ‘হরিবোল’ বলা যাবে না। স্বাধীন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক।”
রাজ্যে মৌলবাদ চরমে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে যেমন দুর্গাপুজোর সময় ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চস্বরে ডিজে বাজানো হয়, তেমন ঘটনাও পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় দেখা যাচ্ছে। প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুর্শিদাবাদের প্রতিমাশিল্পী বাবা-ছেলে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস হত্যাকাণ্ডেরও। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, “দুর্গাপুজো কোনও উৎসব নয়, এটি পুজো। একসময় একে শুধুই ‘উৎসব’ বলা হত। দেবীকে সরিয়ে রেখে শুধু থিম দিয়ে পুজো হয় না। মানুষের কাছে দুর্গাপুজোর মূল আকর্ষণ দেবী দুর্গাই।”
এদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও তোলেন শমীক। তাঁর দাবি, পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একাই লড়াই করেছিলেন। ধর্মীয় অধিকার রক্ষার সেই ঐতিহ্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।





