তমলুক, ১৬ জুলাই: রথ উপলক্ষে দিঘাগামী যাত্রাপথ মুহূর্তে পরিণত হল মৃত্যুকূপে। দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কে যান্ত্রিক গোলযোগে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বেসরকারি বাসে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারল একটি লরি। বাসের পিছনে দাঁড়িয়ে মেরামতির কাজ করছিলেন চালক, মালিক-সহ কয়েক জন। লরির ধাক্কায় তাঁদের উপর দিয়েই কার্যত চলে যায় মৃত্যু। ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত আরও তিন জন তমলুক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার ভোররাতের এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে পূর্ব মেদিনীপুরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া থেকে দিঘার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বেসরকারি বাসটি। ভোররাতে খেজুরি থানার হেঁড়িয়া এলাকায় দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে বাস দাঁড় করিয়ে মেরামতির কাজ শুরু করেন চালক ও কর্মীরা। সেই সময়ই দ্রুতগতিতে আসা একটি লরি বাসের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে বাসের পিছনে থাকা কয়েক জন ছিটকে পড়েন, অনেকে চাপাও পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকেরা চার জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতদের নাম তপন দাস (৪৪), শিবব্রত পট্টনায়েক (৫৯), অশোক মাইতি এবং শুভদীপ মণ্ডল। তপন বাসটির মালিক এবং বাজকুলের বাসিন্দা। শিবব্রত দিঘার বাসিন্দা ও বাসের চালক। অশোক ভূপতিনগর এবং শুভদীপ বাজকুলের বাসিন্দা ছিলেন। দু’জনেই বাসের হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার পর ঘাতক লরিটিকে আটক করেছে খেজুরি থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, অতিরিক্ত গতির কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে ধাক্কা মারে লরিটি।





