শিলিগুড়ি, ১৪ জানুয়ারিঃ ভোটার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম জমা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বুধবার এসডিও অফিসে হাজির হলেন তিন বিধায়ক। এদিন এসডিও দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক আনন্দময় মর্ম, দুর্গা মুর্মু এবং শঙ্কর ঘোষ। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাতে ইআরও দপ্তর ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার সংক্রান্ত একাধিক ফর্ম গ্রহণ করছে না, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিধায়কদের দাবি, আগের দিনও তাঁরা ফর্ম জমা দিতে এসেছিলেন, কিন্তু সেদিনও কোনও ফর্ম গ্রহণ করা হয়নি। সোমবার ফের ফর্ম জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসডিও অফিসে এসে তাঁরা ইআরও দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, কিছু বিএলও অকারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। এমনকি জীবিত ব্যক্তিদের ‘মৃত’ দেখানো হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
তিন বিধায়কের আরও অভিযোগ, ছয় ও সাত নম্বর ভোটার ফর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফর্ম জমা দেওয়ার পর কোনও স্বীকৃতি বা অ্যাকনলেজমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিন বিধায়কেরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা চারবার এসডিও অফিসে এসেছি, কিন্তু একবারও এসডিও সাহেব আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হয়, সেই আইন ও শালীনতা আইএএস অফিসারদের জানা উচিত।”
বিধায়কদের আরও অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দলের তোষামোদ করতে গিয়ে ইআরও ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছেন। শেষে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকার স্থায়ী নয়, দল অস্থায়ী। আজ যে সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, আগামী দিনে নাও থাকতে পারে। তখন এই আধিকারিকরা কী ভূমিকা নেন, তা দেখা হবে।” এই ঘটনা ঘিরে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।





