খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১২জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের আবেগঘন মঞ্চেই রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নাম, প্রতীক এবং তহবিল নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে মেয়ো রোডের শহিদ সমাবেশ থেকে বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। ঘোষণা করলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি এবং দলের প্রতীক-তহবিল তাঁদের হাতে এলে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদদের প্রত্যেক পরিবারের হাতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এ বছর একুশে জুলাইয়ের ছবি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতার অল্প দূরত্বের মধ্যে তিনটি আলাদা মঞ্চে শহিদ স্মরণ হয়েছে ক্যাথিড্রাল রোডে কালীঘাট তৃণমূল, মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল এবং শহিদ মিনারে কংগ্রেস।
এই আবহেই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরাসরি আক্রমণ করেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, এতদিন শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান তার প্রকৃত মর্যাদা হারিয়েছিল। ‘‘শহিদ স্মরণের মঞ্চ কোনও রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, কোনও ক্যাটওয়াকের জায়গাও নয়। শহিদদের সম্মান ফিরিয়ে আনতেই আমরা এই কর্মসূচি করছি,’’ বলেন তিনি।
ঋতব্রতের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শহিদ পরিবারগুলির প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘শহিদদের নামেও চুরি হয়েছে। এবার সেই অন্যায়ের অবসান ঘটাতে চাই।’’
বর্তমানে দলের নাম, প্রতীক ও তহবিল নিয়ে দুই শিবিরের লড়াই নির্বাচন কমিশনের দরজায় পৌঁছেছে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য দিকে, ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনিই দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকৃত তৃণমূল তাঁর নেতৃত্বেই রয়েছে। প্রয়োজন হলে দলের নাম ও প্রতীক রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
একই দিনে তিনটি মঞ্চ, তিনটি রাজনৈতিক বার্তা। তবে মেয়ো রোড থেকে ঋতব্রতের মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং শহিদ পরিবারকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া, একুশে জুলাইয়ের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।





