নিজস্ব সংবাদদাতা, ১২ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ এ বার শুধু শহিদ স্মরণেই সীমাবদ্ধ থাকল না। ১৯৯৩ সালের মহাকরণ অভিযানের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল কংগ্রেস এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। প্রশ্ন একটাই ক্ষমতায় আসার পর গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হল না কেন?
মঙ্গলবার শহিদ মিনারে কংগ্রেসের শহিদ স্মরণসভা এবং মেয়ো রোডে ‘আসল’ তৃণমূলের সমাবেশ— দুই মঞ্চ থেকেই একই অভিযোগ ওঠে। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের দাবি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কেন কমিশনের রিপোর্ট চেপে রেখেছিল, তার তদন্ত হওয়া উচিত।’’
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী। সেই ঘটনার বিচার ও দায় নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করে তাঁর সরকার।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ওই কমিশন নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার নাকি নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে দেয়। সেই বক্তব্য সামনে আসার পরই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়ার প্রসঙ্গ নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
মেয়ো রোডের সভা থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ক্ষমতায় এলে ১৯৯৩ সালের দোষীদের শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা হলে তা হল না কেন? কমিশনের রিপোর্ট ইচ্ছাকৃত ভাবে চাপা দেওয়া হয়েছিল। এর জবাব তাঁকেই দিতে হবে।’’
এতেই থামেননি ঋতব্রত। একুশে জুলাইয়ের পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানগুলিকেও কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আগে শহিদ মঞ্চে শুধু নাচ-গান হত, তারকাদের এনে ক্যাটওয়াক করানো হত। শহিদ স্মরণের মঞ্চ সে জন্য নয়।’’
অন্য দিকে, একই সময়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের সভা থেকে বিজেপি ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একই ইতিহাস, কিন্তু তিনটি আলাদা মঞ্চ। আর সেই মঞ্চ থেকেই উঠে এল তিন রকম রাজনৈতিক বার্তা। তবে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন যে আগামী দিনেও রাজ্যের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে, তা স্পষ্ট।





