খবরিয়া ২৪ দেস্ক, ২১ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ এ বার শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ থাকল না। রাজ্যের বাইরে, দিল্লির রাজঘাটেও পালিত হল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদদের স্মরণ। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া সাংসদদের উদ্যোগে আয়োজিত সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, ইউসুফ পাঠান, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক সাংসদ। তবে দলের নয় জন সাংসদ সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলায় কলকাতায় না এসে দিল্লিতেই শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এনসিপিআইয়ের সাংসদরা। মঙ্গলবার দুপুরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১২ জন সাংসদ রাজঘাটে পৌঁছে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের হাতে ছিল ফুলের ঝুড়ি। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে নিহত ১৩ যুব কংগ্রেস কর্মীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান তাঁরা।
কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কাকলির একটি মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। বারাসতের সাংসদের বক্তব্য, ‘‘শহিদ তো কার্গিলের যোদ্ধারাও, শহিদ তো মহাত্মা গান্ধীজিও। রাজঘাটে যখন আমরা শহিদ স্মরণ করছি, সবাইকেই শ্রদ্ধা জানাই।’’ তাঁর এই মন্তব্যকে কেউ সর্বজনীন শ্রদ্ধার বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একুশে জুলাইয়ের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে আলোচনাকে অন্য দিকে নিয়ে গিয়েছে এই মন্তব্য।
এ দিকে প্রায় একই সময়ে কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ স্মরণসভা থেকে দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান কুণাল ঘোষ। ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘শেষ দেখে ছাড়ব।’’
কুণালের ওই মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পাল্টা বিতর্কে যেতে চাননি কাকলি। তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘‘কে কী বলছেন, তার উত্তর দিতে চাই না। আমরা এখানে শহিদদের জন্য প্রার্থনা করছি। সকলের জন্যই আমাদের শুভকামনা। উনিও ভালো থাকুন।’’
একুশে জুলাইয়ের ইতিহাস একই থাকলেও এ বছর তার উদ্যাপনের ছবি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও আলাদা মঞ্চে শহিদ স্মরণ, আর সেই মঞ্চ থেকেই উঠে আসা ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতাকেই যেন আরও স্পষ্ট করে দিল।





