নিজস্ব সংবাদদাতা, ২১ জুলাইঃ একই দিনে দুই মঞ্চ, দুই বিপরীত রাজনৈতিক বার্তা। তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের সভা থেকে বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কিছু দূরে মেয়ো রোডে ‘আসল’ তৃণমূলের সমাবেশ থেকে নিশানায় সেই অভিষেকই। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিলেন মদন মিত্র। শুধু তা-ই নয়, তাঁর বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক।
সম্প্রতি কালীঘাট তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন মদন মিত্র ও ফিরহাদ হাকিম। দলবদলের পর থেকেই তাঁদের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রবীণ নেতাদের গুরুত্ব কমেছে এবং দল পরিচালনায় একক আধিপত্য তৈরি হয়েছিল। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে সমান্তরালভাবে দল চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার মেয়ো রোডের শহিদ সমাবেশে সেই আক্রমণের সুর আরও চড়ান মদন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না। ডায়মন্ড হারবারের ‘মডেল’ অন্যদের ক্ষেত্রে কাজ করলেও তাঁর ক্ষেত্রে করবে না। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সিপিএম আমলেও তাঁকে ভয় দেখিয়ে দমানো যায়নি।
মদন আরও দাবি করেন, অভিষেকের উচিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। সেই জন্য তিনি দু’ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ও দেন। যদিও ওই সময়সীমা বা মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া তৎক্ষণাৎ অভিষেকের তরফে পাওয়া যায়নি।
এর আগের দিনই ফেসবুক লাইভে অভিষেকের বিরুদ্ধে আরও তীব্র ব্যক্তিগত অভিযোগ এনেছিলেন মদন। সেই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে, প্রায় একই সময়ে তারামণ্ডলের সভামঞ্চ থেকে বিক্ষুব্ধ শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের আর ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে বলেন, ‘‘যাঁরা যেতে চান, বিজেপিতে যান। জায়গা খালি হলে তা পূরণ করার মতো ছাত্র-যুব আমাদের রয়েছে।’’
একুশে জুলাইয়ের আবেগঘন দিনে দুই মঞ্চ থেকে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বকেই আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল। রাজনৈতিক সংঘাতের এই লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর।





