খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ সেপ্টেম্বরঃ সৈকত শহরে ছুটি কাটাতে গিয়ে হোটেলের সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে বচসা। অভিযোগ, সেই বচসা গড়াল হাতাহাতিতে। তার পরেই লাঠি নিয়ে পর্যটকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল হোটেলের ম্যানেজার ও নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় নদিয়ার বাদকুল্লার বাসিন্দা ভাস্কর বিশ্বাস এবং উত্তর ২৪ পরগনার সুব্রত ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়।
শনিবার সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্দারমণিতে পৌঁছেছিলেন একদল পর্যটক। তাঁদের দাবি, একটি হোটেলের বাইরে গাড়ি রেখে ভিতরে ঘর দেখতে যান তাঁরা। ঘর পছন্দ না হওয়ায় সেখান থেকে বেরিয়ে পাশের একটি হোটেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ, ফিরে এসে তাঁরা দেখেন, গাড়ির চালকের সঙ্গে অভব্য আচরণ করছেন হোটেলের নিরাপত্তারক্ষী।
পর্যটকদের অভিযোগ, গাড়িটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হতেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর হোটেল থেকে লাঠি নিয়ে বেরিয়ে আসেন নিরাপত্তারক্ষী ও ম্যানেজার। পর্যটকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় বৃদ্ধ ও মহিলারাও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনার একটি ভিডিয়ো সামনে এসেছে, যেখানে কয়েক জনকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি হোটেলের ম্যানেজারকে আটক করা হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে ম্যানেজার ও নিরাপত্তারক্ষী দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কী কী ধারায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তে আরও কারও ভূমিকা উঠে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে ঘটনাকে একতরফা ভাবে দেখছে না হোটেল কর্তৃপক্ষের সংগঠনও। হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক আদকের বক্তব্য, ঘটনাটি নিন্দনীয়। তবে তাঁর দাবি, তিনি যে তথ্য পেয়েছেন, তাতে গাড়ি সরাতে বলার পর পর্যটকরাই প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীর উপর চড়াও হয়েছিলেন। যদিও তিনি ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো দেখেননি বলেও জানিয়েছেন।
ফলে তদন্তের কেন্দ্রে এখন কয়েকটি প্রশ্ন গাড়ি কোথায় দাঁড় করানো হয়েছিল, প্রথমে কে উত্তেজিত হয়ে ওঠে, হামলার অভিযোগ কতটা সত্য এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, ভিডিয়ো ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও অতিথি পরিষেবার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে। কোনও বিরোধের জেরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা অবশ্যই আইনি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় পড়বে। আপাতত গ্রেপ্তার হওয়া দু’জনকে আদালতে পেশ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।





