শিলিগুড়ি, ৬ সেপ্টেম্বরঃ জমি দখলের অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের ফাঁসিদেওয়া-২ ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি কাজল ঘোষ। শনিবার রাতে ফাঁসিদেওয়া থানার বিধাননগর এলাকায় নিজের হোটেলের সামনে থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজনৈতিক ভাবে এক সময় এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী বলে পরিচিত এই নেতার গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারের পর কাজলকে প্রথমে খড়িবাড়ি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ফাঁসিদেওয়া থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথা তদন্তকারীদের।
ঘটনার সূত্রপাত ফাঁসিদেওয়ার বড় পাইকপাড়া এলাকায়। অভিযোগ, পাট্টা পাওয়া প্রায় এক একর জমি বেআইনি ভাবে দখল করে সেখানে দোকান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই জমির মালিক কল্যাণী গোস্বামী গত ৭ আগস্ট ফাঁসিদেওয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত কাজল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফাঁসিদেওয়া এবং বৃহত্তর শিলিগুড়ি মহকুমার রাজনীতিতে কাজল ঘোষ এক সময় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ডের সদস্য হিসাবেও তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা জানা যায়। অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, বিরোধী দলের কর্মীদের ভয় দেখানো এবং তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। যদিও সেই সব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এ দিকে, চলতি বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে কাজলকে তুলনামূলক ভাবে কম দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল।
তবে বর্তমান মামলায় অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে। জমি দখলের অভিযোগের নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, জমির দখল ও নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্রে কোনও অনিয়ম ছিল কি না এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না। এখন তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।





