দিনহাটা, ২১ জুলাইঃ জনগণনার প্রস্তুতি শুরু হতেই উত্তরবঙ্গে ভাষা-পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত। আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা জনগণনাকে সামনে রেখে নস্যশেখ সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিশেষ আবেদন জানাল পশ্চিমবঙ্গ নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি বজলে রহমানের দাবি, জনগণনার ফর্মে মাতৃভাষার ঘরে ‘কামতাপুরী’ উল্লেখ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, এই তথ্য ভবিষ্যতে সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ভিডিয়ো বার্তায় বজলে রহমান বলেন, জনগণনার ফর্মে ধর্মের স্থানে ‘ইসলাম’, জাতি বা সম্প্রদায়ের স্থানে ‘নস্যশেখ’ এবং মাতৃভাষার ঘরে ‘কামতাপুরী’ লিখতে হবে। তাঁর দাবি, নস্যশেখ সম্প্রদায়ের ওবিসি স্বীকৃতি সংক্রান্ত নথিপত্রে কামতাপুরী ভাষার উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণে জনগণনায়ও একই তথ্য নথিভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে সংরক্ষণ-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিষদের দাবি, ভাষাগত পরিচয় শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশ্ন নয়, প্রশাসনিক নথিতেও তার গুরুত্ব রয়েছে। তাই জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রত্যেকে যেন নিজের প্রকৃত পরিচয়ই তুলে ধরেন।
শুধু নস্যশেখ সম্প্রদায়ের মানুষই নন, উত্তরবঙ্গের অন্যান্য ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের প্রতিও একই আবেদন জানিয়েছেন বজলে রহমান। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁদের যে মাতৃভাষা, জনগণনায় সেটাই লিখুন। প্রকৃত ভাষাগত পরিচয় সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।’’
আগামী জনগণনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কামতাপুরী ভাষার স্বীকৃতি, ব্যবহার এবং পরিচিতি নিয়ে নানা দাবি উঠেছে। সেই আবহেই নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের এই আবেদন নতুন করে ভাষা-পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এল।
তবে জনগণনায় কোন ভাষা বা পরিচয় কীভাবে উল্লেখ করা হবে, তা শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নাগরিকের নিজস্ব ঘোষণার বিষয়। তবু জনগণনার আগে নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের এই আহ্বান উত্তরবঙ্গের সামাজিক ও ভাষাগত পরিসরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





