মাথাভাঙ্গা, ২১ জুলাইঃ দলের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মানসাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বিজেপি কর্মী জিতেন বর্মন। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল ছবিটা। মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছলেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল চাল-সহ খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন নেতারা। এই ঘটনাকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ ‘ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন।
সোমবার মাথাভাঙ্গা শহরের পঞ্চানন মোড় এলাকার বাসিন্দা জিতেন বর্মন মানসাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
উদ্ধারের পর জিতেনের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন বিজেপির হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করলেও ব্যক্তিগত বিপদের সময়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাননি। তাঁর দাবি, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য একাধিক নেতার কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ ১২ বছর ভাড়া বাড়িতে থাকার পরও কোনও সরকারি বা দলীয় সহায়তা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই হতাশা থেকেই আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।
এই ঘটনার পর মঙ্গলবার জিতেনের বাড়িতে যান বিজেপি কোচবিহার জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত বর্মন এবং জেলা কমিটির সদস্য শেখর রায়। তাঁরা পরিবারের হাতে চালের বস্তা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এই সাহায্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জিতেন বর্মনও। তাঁর পরিবারের পাশে দল দাঁড়ানোয় স্বস্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।
প্রশান্ত বর্মনের দাবি, বিষয়টি এলাকার বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর নজরে আসার পরই তাঁর নির্দেশে তাঁরা জিতেনের বাড়িতে যান। তাঁর কথায়, ‘‘এটি শুধু তাৎক্ষণিক সাহায্য নয়। আগামী দিনেও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।’’
তবে জিতেন বর্মনের অভিযোগ ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখনও পুরোপুরি থামেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন কর্মীর ব্যক্তিগত সংকট নয়, দলীয় সংগঠনের তৃণমূল স্তরের যোগাযোগ ও দায়িত্ববোধ নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





