খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ জানুয়ারিঃ বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ খোলা সীমান্ত এবং সেই পথে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নর্থ ব্লক সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও সীমান্তবর্তী রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের বছরে অন্তত ৫০টি রাত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে কাটাতে হবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো সংবেদনশীল রাজ্যগুলিকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। নদী, চরাঞ্চল, কাঁটাতারহীন বিস্তীর্ণ এলাকা ও ঘন জনবসতির কারণে এই সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ‘পোরাস’ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক টানাপোড়েন ও মৌলবাদী শক্তির সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছে কেন্দ্র।
সূত্রের খবর, এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বিএসএফ, আইটিবিপি, সশস্ত্র সীমা বল ও অসম রাইফেলসের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির পুলিশপ্রধানদেরও জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ডিজি রাজীব কুমারের কাছেও নির্দেশ পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে। গত নভেম্বরে রায়পুরে অনুষ্ঠিত ডিজি–আইজি সম্মেলনের পরেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
কেন্দ্রের মতে, শুধুমাত্র কাঁটাতার বা টহল বাড়ালেই সীমান্ত সুরক্ষিত করা সম্ভব নয়। সীমান্ত গ্রামগুলির বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, আস্থা গড়ে তোলা এবং স্থানীয় স্তরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহই নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি। তাই আধিকারিকদের নিয়মিত গ্রামে রাত কাটানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কোচবিহার এই জেলাগুলিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ কেন্দ্রের ‘ভাইব্রান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম’-এর অংশ। ওই ৫০ দিনের সফরে আধিকারিকরা গ্রামবাসী, যুবক-যুবতী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ‘সীমান্তের চোখ ও কান’ হিসেবে গড়ে তুলবেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।





