কলকাতা, ১১ মেঃ রাজ্যে সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাসে নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। নিহত কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের আত্মবলিদানের মাধ্যমে বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁদের পরিবারের পাশে থাকা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন বহু বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থক। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিহত কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারের আশ্বাসও দিয়েছে নতুন সরকার। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নবান্নে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারের আরও পাঁচজন মন্ত্রী। বৈঠকে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঙ্গে রাজ্যকে যুক্ত করার বিষয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো প্রকল্প এবার থেকে রাজ্যে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও এতদিন কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণে যে প্রশাসনিক বাধা ছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরা চাইলে এবার কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি চালু ছিল।
সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে প্রথম মন্ত্রিসভা থেকেই। চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমার ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করল নতুন সরকার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় এসেই রাজনৈতিক হিংসা, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল নতুন বিজেপি সরকার।




