কলকাতা, ১১ মেঃ নবান্নে সোমবার অনুষ্ঠিত হল নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। প্রথম বৈঠকেই ছয়টি বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। পাশাপাশি আগামী সোমবার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের কথাও জানানো হয়েছে, যেখানে ডিএ, পে কমিশন, নারী নিরাপত্তা এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদের আত্মবলিদানের মাধ্যমে বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
এছাড়াও সীমান্ত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করাই এখন অন্যতম অগ্রাধিকার।
এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল বাংলাকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঙ্গে যুক্ত করা। ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এবং ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবার থেকে রাজ্যে কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন সরকার। এতদিন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না পারা রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরা এবার থেকে সেই সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নতুন আইন ব্যবস্থা রাজ্যে দ্রুত কার্যকর করা হবে।
সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমার ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত থমকে থাকার ফলে বহু চাকরিপ্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে আগামী সোমবার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ, নতুন পে কমিশন গঠন, আর জি কর-কাণ্ডের মতো নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। নতুন সরকার প্রশাসনিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা ইস্যুকেই প্রথম থেকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।




