কলকাতা, ১১ মেঃ বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিল বিজেপি সরকার। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত জনবিন্যাস বদলাচ্ছে এবং তা রুখতে অবিলম্বে পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবের তত্ত্বাবধানে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পূর্ণ হবে।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিএসএফকে প্রায় ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
বাংলায় নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন অঞ্চলে জনবিন্যাসের পরিবর্তন হচ্ছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে বারবার উঠে এসেছিল ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতির কথা। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, সামাজিক প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলায় চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প চালু থাকবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া নজরদারির কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “কোনও অভারতীয় যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির নামে যাতে কোনও সরকারি সুবিধা না যায়, তার জন্যও স্ক্রুটিনি করা হবে।” সরকারের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় এসেই সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল নতুন বিজেপি সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা’ গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার বলেও দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।




