কলকাতা, ১১ মেঃ নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠক শেষে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন পর বাংলার মানুষ ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখল। ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, সমস্ত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ধন্যবাদ জানাই।” পাশাপাশি তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকার রাজ্যের অনেক ক্ষতি করে গিয়েছে। তবে নতুন সরকার বাংলাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। তাঁদের আত্মবলিদানের ফলেই বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে সীমান্ত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে যাওয়ায় সীমান্ত রক্ষা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বাংলাকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঙ্গে যুক্ত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প এবার রাজ্যে চালু হবে। এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো পূর্বতন সরকারের সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরা চাইলে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। পঞ্চম সিদ্ধান্ত হিসেবে রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এতদিন বাংলায় অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি চালু ছিল।
ষষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ ছিল। তাই বেকার যুবক-যুবতীদের কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমার ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এবং আগ্নিমিত্রা পাল নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করবেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।




