কোচবিহার, ১৪ আগস্টঃ বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর বদল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া জনরোষের মধ্যে অবশেষে দুঃখপ্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তায় তিনি জানান, তাঁর মন্তব্যে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
নেতাজি সম্পর্কে ঠিক কী বলেছিলেন অনন্ত? তাঁর দাবি ছিল, শুধু মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে এই ধারণা ঠিক নয়। একই সঙ্গে কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি নেতাজির নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে।
অনন্তের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই বিতর্কের ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। এর মধ্যেই রাজ্য সরকার তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, নেতাজিকে অপমান করা হলে তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সম্মান প্রত্যাহারের পর অবশ্য প্রথমে নিজের বক্তব্যের পক্ষেই সওয়াল করেছিলেন অনন্ত। তাঁর দাবি ছিল, তিনি নেতাজিকে অপমান করেননি। ইতিহাসে থাকা তথ্যই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। এমনকি ভুল করে থাকলে আইনি শাস্তি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
কিন্তু সম্মান হাতছাড়া হওয়ার পর বদলে গেল সেই সুর। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তায় অনন্ত বলেন, ‘‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্যে কেউ যদি মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।’’
তবে তাঁর এই দুঃখপ্রকাশের পরেও বিতর্ক পুরোপুরি থামবে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।





