কোচবিহার, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম, বেহাল রাস্তা, জল জমার সমস্যা কিংবা সরকারি প্রকল্পের সুবিধাএলাকার মানুষের নানা সমস্যার কথা শুনতে কোচবিহার শহরের দুই ওয়ার্ডে জনসংযোগে নামল বিজেপি। মঙ্গলবার ১০ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। সমস্যাগুলি শুনে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় দলের তরফে।
১০ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেত্রী তথা জেলা সহ-সভাপতি দীপা চক্রবর্তী। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় উঠে আসে রাস্তা সংস্কারের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য শোনার পর দীপা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
জনসংযোগের পাশাপাশি এদিন কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে চায়ের আড্ডাতেও যোগ দেন দীপা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে এলাকার ছোট-বড় নানা সমস্যা জানার চেষ্টা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। কর্মসূচিকে ঘিরে দলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।
অন্য দিকে, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডেও একই দিনে জনসংযোগ কর্মসূচি করে বিজেপি। নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণ টাউন মণ্ডলের সভাপতি গদাধর দাস। এ দিনের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পায় ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে কী ভাবে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যায়, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয় দলের তরফে।
এর পাশাপাশি ওয়ার্ডের জল জমার সমস্যা মোকাবিলাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুরসভার নতুন যন্ত্র ব্যবহার করে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করা হয় বলে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে। জল নিকাশির সমস্যা কমাতেই এই উদ্যোগ বলে দাবি দলীয় নেতৃত্বের।
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকেও যাতে কোনও বাসিন্দা বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিও জনসংযোগে তুলে ধরা হয়। এখনও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি এমন বাসিন্দাদের চিহ্নিত করে তাঁদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিজেপি নেতৃত্ব।
দুই ওয়ার্ডের কর্মসূচিতেই রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনা, সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জনসংযোগের মাধ্যমে এই তিন দিকেই জোর দেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিজেপি।





