কলকাতা, ২০ মেঃ বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী-র সম্পত্তি নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে, তখনই নতুন বিতর্কে জড়াল যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের নাম। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কলকাতার সেভেন ট্যাঙ্ক রোড এলাকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে সায়নী ঘোষের। এই দাবি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার নজরে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৭টি সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্ক রোডের একটি ফ্ল্যাট। সেই সম্পত্তির নথিতে ‘সায়নী ঘোষ’ নামে আর এক মালিকের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই শুরু হয় কানাঘুষো। প্রশ্ন উঠতে থাকে, ওই ‘সায়নী ঘোষ’ কি আদৌ যাদবপুরের সাংসদ?
বুধবার সকালে এই বিতর্ক নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সরব হন সায়নী ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, “কয়েক জায়গায় দেখলাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ যৌথভাবে একটি সম্পত্তির মালিক বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু আমি জানি না এই সায়নী ঘোষ কে।”
তিনি আরও লেখেন, “আমি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি। রাজনীতি থেকে কোনও অপ্রত্যাশিত লাভ করিনি। আমার নির্বাচনী হলফনামায় আমার সমস্ত সম্পত্তির বিবরণ রয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কোনও প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে বিতর্কে টেনে আনা হচ্ছে।
সোশাল মিডিয়া পোস্টে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। সায়নী লেখেন, “যারা ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছেন, এখনই থামুন। নাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, ভয় দেখিয়ে তাঁকে চুপ করানো যাবে না। তাঁর কথায়, “এই ঘোষকে ভয় দেখানো যাবে না। আমি কবিগুরুর দেশের মানুষ।”
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপর থেকেই একাধিক প্রভাবশালী নেতার সম্পত্তি ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই আবহেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি বিতর্ক এবং তাতে সায়নী ঘোষের নাম জড়ানো নিয়ে রাজ্য রাজনীতি আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।





