কলকাতা, ২০ মেঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই অ্যাকশন মুডে পুলিশ-প্রশাসন। কলকাতা থেকে জেলা একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেত্রী।
ধৃতদের নাম সবিতা রায় ও মিঠু সর্দার। সবিতা রায় বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী ও সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী পদে ছিলেন। অন্যদিকে মিঠু সর্দার ছিলেন সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভানেত্রী এবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। পুলিশ সূত্রে খবর, ইডি হামলার ঘটনার পর থেকেই তাঁরা পলাতক ছিলেন।
ন্যাজাট থানার পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের খোঁজ চালাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় দুই নেত্রীকে। রাতেই তাঁদের সন্দেশখালিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইডি আধিকারিকদের উপর হামলা ছাড়াও ভোট পরবর্তী হিংসা, বিরোধীদের উপর অত্যাচার এবং ভাঙচুর-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৩ সালের ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতির তদন্তে সন্দেশখালিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিলেন ইডি-র আধিকারিকরা। সেই সময় তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন আধিকারিক আহত হন। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রাজ্যজুড়ে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে পরে গ্রেপ্তার হন শেখ শাহজাহান। তদন্তকারীদের দাবি, সবিতা রায় ও মিঠু সর্দারও ওই হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধীদের উপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগেও মিঠু সর্দারের নাম উঠে এসেছিল। বিজেপি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পর থেকেই তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘদিন পর দুই তৃণমূল নেত্রীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।





