কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম রথযাত্রা। আর সেই আবহেই কলকাতার ইসকনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় অংশ নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইসকনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রার দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে রথের রশিতে টান দিয়ে যাত্রার সূচনা করবেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসকন কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ইসকনের আধিকারিকেরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও দক্ষিণ কলকাতা থেকে রথযাত্রা শুরু হবে। সেখান থেকে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অতিক্রম করে রথ পৌঁছবে কলকাতার ময়দানে, যেখানে জগন্নাথদেবের ‘মাসির বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত স্থানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করবে।
ইসকনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বেলা প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অনুষ্ঠানে পৌঁছতে পারেন। সেখানে তিনি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ দর্শন করবেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর রথের রশিতে টান দেবেন। তাঁকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ইসকনের অধ্যক্ষ দয়ারাম দাস, সহ-অধ্যক্ষ বল্লভ চৈতন্য দাস, রথযাত্রা কমিটির চেয়ারম্যান অনঙ্গ মোহন দাস এবং ইসকনের কলকাতা শাখার সচিব অনন্ত ভগবান দাস। তাঁরা জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই সময় কলকাতায় থাকতে পারেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। সেই কারণে তাঁকেও রথযাত্রার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁর উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত নয়।
ইসকনের দাবি, গত বছর রথযাত্রা থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ ভক্ত এই উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন। এ বছর সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। ভারত ছাড়াও চিন, রাশিয়া, ইউক্রেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তদের আগমনের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
কলকাতার ইসকনের রথযাত্রা বহু দশকের ঐতিহ্য বহন করে আসছে এবং প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমে তা শহরের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়। এবারও নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় সামলাতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ইসকন। আগামী বৃহস্পতিবারের এই রথযাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মহলে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।





