কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহের পাশাপাশি বাড়ছে নানা জিজ্ঞাসাও। বিশেষ করে কারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন এবং কারা আসবেন না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। সরকারি শিবির ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সুবিধা নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হবে। আবেদনকারীর পেশা, আয়, সম্পত্তি এবং পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করবে তিনি সুবিধাভোগী হবেন কি না।
যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকটি অসংগঠিত ক্ষেত্রের পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাফাইকর্মী, পরিচারক, হকার, ভ্যান ও রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, নিরাপত্তারক্ষী-সহ মোট ১১টি পেশার কর্মী। এই তালিকার বাইরে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণভাবে এই সুবিধা পাবেন না।
এ ছাড়া পরিবারের নামে দুই চাকা বা চার চাকার গাড়ি থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। সরকারি কর্মচারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সরকারি পেনশনভোগীরাও এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
কৃষি ক্ষেত্রেও কয়েকটি শর্ত রাখা হয়েছে। কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে অথবা পাঁচ একরের বেশি কৃষিজমি ও ট্র্যাক্টরের মালিক হলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। পাশাপাশি বয়স-সংক্রান্ত একটি শর্তও রয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন জেলায় আবেদনকারীদের মধ্যে এই শর্তগুলি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানাতে সচেতনতামূলক শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের যোগ্যতার আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্প আনার বিষয়টি বিবেচনাধীন। যদিও সেই প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্তই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আবেদন শুরুর পর তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।





