কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ অরণ্য সপ্তাহের সূচনায় নবান্নে কেন্দ্র ও রাজ্যের বৈঠকে উঠে এল গ্রামীণ উন্নয়ন, আবাস, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো প্রকল্পের একাধিক বিষয়। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ দুই সরকারের শীর্ষ আধিকারিক ও মন্ত্রীরা।
বৈঠক শেষে শিবরাজ সিং চৌহান জানান, এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে নির্ধারিত ১২৫ দিনের কাজের সঙ্গে প্রয়োজনে আরও ৫০ দিন কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যাতে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের আয় ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ছাড়া ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, “কেন্দ্র অতীতেও পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করেছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগে সেই প্রকল্পগুলির সুফল অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি।” যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক, রেল, মেট্রো-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮২ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার কাজ অনুমোদিত বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আবাস যোজনা, গ্রামীণ সড়ক, কর্মসংস্থান এবং কৃষি-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্র আবাস যোজনার আওতায় এক লক্ষ বাড়ি নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। উপভোক্তাদের যাচাই প্রক্রিয়ার সময়সীমাও ১৫ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়া জেলায় ‘প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য প্রকল্প’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার জন্য কেন্দ্র প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি।
নবান্নের এই বৈঠককে কেন্দ্র–রাজ্য সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসনিক মহল। তবে বৈঠকে ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনা কবে এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।





