দক্ষিন ২৪ পরগণা, ১৪ জুলাইঃ বারুইপুরে নাবালিকাকে কেন্দ্র করে আর এক অপরাধের অভিযোগ ঘিরে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল। এক নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সামাদ আলি নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল অভিযুক্ত। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা-সহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ফরেনসিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনত দোষী নন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বারুইপুরের সাম্প্রতিক নাবালিকা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে সূর্যপুর এলাকায় এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং রেল অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই মামলায় পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
ওই তদন্ত চলাকালীন অন্যতম অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশি গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি নিয়েও পৃথকভাবে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
সাম্প্রতিক ঘটনার পর বারুইপুরে আইনশৃঙ্খলা ও নারী-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, নাবালিকা-সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সূর্যপুর এলাকায় ইতিমধ্যেই একটি পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন হয়েছে এবং টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
নতুন ঘটনায় তদন্ত কোন দিকে এগোয়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী কী ধারায় মামলা রুজু হয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারী সংস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।





