দক্ষিন ২৪ পরগণা, ১৪ জুলাইঃ বারুইপুরের বহুচর্চিত নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের তদন্তে ফের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হল তিন অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার সকালে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) আধিকারিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তদন্তে সহায়তার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়, অভিযুক্তদের চলাচলের পথ এবং ঘটনাস্থলের সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখতেই এই পুনর্নির্মাণের আয়োজন করা হয়। অপরাধ তদন্তে এ ধরনের পুনর্নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ এবং ঘটনার ক্রম নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই মামলায় প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় প্রভাস মণ্ডল নামে এক অভিযুক্তকে। পুলিশ জানায়, ফুটেজে নাবালিকার সঙ্গে তাঁকে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছিল। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা নাবালিকার দেহ উদ্ধারের সূত্র পান। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। এরপর প্রভাসের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে গ্রেপ্তার করা হয় আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে।
তবে এই মামলার তদন্তে এর আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পূর্ববর্তী এক পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশি হেফাজতে থাকা প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনাস্থল দেখানোর সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টারের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবারের পুনর্নির্মাণ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন। বারুইপুর জেলা পুলিশের তরফে ঘটনাস্থল ও আশপাশে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
চলতি মাসের শুরুতে বারুইপুরের ধপধপি এলাকায় একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হন। মৃতদেহ রেখে রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি রেল অবরোধও করা হয়। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তদন্ত এখনও চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ভিডিও রেকর্ডিং এবং পুনর্নির্মাণে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আইনত অভিযুক্ত, দোষী নন।





