কলকাতা, ২০ মেঃ কুরবানির ইদের আগে গবাদি পশু হত্যা নিয়ে বিজেপি সরকারের নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র হয়েছে। যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশু হত্যা রুখতে রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান এবং তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
বুধবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্যের তরফে সময় চাওয়া হয়। ফলে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছে। মামলার ফল কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
এদিন আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, কুরবানির ইদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। তাঁর দাবি, রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ১২ নম্বর ধারায় বিশেষ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারার ভিত্তিতেই আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে শুধুমাত্র এই উৎসব উপলক্ষে গরু বাদ দিয়ে মহিষ বা বলদ কুরবানির অনুমতি দেওয়া হয়।
মহুয়ার অভিযোগ, নতুন নির্দেশিকার ফলে বহু গরিব মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাঁর কথায়, “শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, বহু হিন্দু ব্যবসায়ীও কুরবানির সময় পশু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই সিদ্ধান্তে তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
প্রসঙ্গত, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে গবাদি পশু জবাই ও মাংস বিক্রির উপর একাধিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নিয়ম না মেনে গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুর জবাই করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে সরকার আইনশৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে পশুহত্যার পক্ষে সওয়াল করছে, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবিকা ও ধর্মীয় ভাবাবেগের উপর প্রভাব ফেলবে।





