কলকাতা, ২০ মেঃ যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ-কে নিয়ে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের সিকন্দরাবাদ নগরপালিকার চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিতের একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে শোরগোল। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে সায়নী ঘোষের “মাথা কেটে আনলে ১ কোটি টাকা পুরস্কার” দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত বহু বছর আগের একটি ঘটনাকে ঘিরে। প্রায় এক দশক আগে শিবলিঙ্গ নিয়ে একটি ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে। সেই সময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। যদিও পরে সায়নী দাবি করেছিলেন, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল এবং ওই পোস্ট তিনি করেননি। তবুও সেই বিতর্ক বারবার রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ফিরে এসেছে তাঁর জীবনে।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সিকন্দরাবাদে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন এই ইস্যুতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সেখানে সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তোলা হয়। এরপরই বিজেপি নেতা প্রদীপ দীক্ষিতের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।
বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান সায়নী ঘোষ। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা-কে ট্যাগ করে লেখেন, “একজন মহিলা সাংসদের মাথা কেটে আনার জন্য প্রকাশ্যে পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে। এটাই কি নারী সুরক্ষা ও নারী সম্মানের উদাহরণ?”
সায়নী আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এই ধরনের মন্তব্য গণতন্ত্র ও নারী নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, “কোনও হুমকি বা ভয় দেখিয়ে আমাকে চুপ করানো যাবে না। আমি সংসদের ভিতরে এবং বাইরে গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে যেভাবে কথা বলেছি, ভবিষ্যতেও সেভাবেই বলব।”
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন সায়নী ঘোষ। সেই সময় তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। যদিও নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতি সরগরম। বিজেপি ও তৃণমূলের তরফে পাল্টা রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।





