খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাবকে ঘিরে গোমাংস বিতর্কে আপাতত ইতি টানলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে সোশাল মিডিয়ায় ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলের’ জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পার্ক স্ট্রিট থানায় দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন সায়ক। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের পরই প্রশ্ন উঠেছে চাপের মুখেই কি নতিস্বীকার করলেন অভিনেতা?
বিগত চব্বিশ ঘণ্টায় গোমাংস বিতর্কে উত্তাল হয়ে ওঠে সোশাল মিডিয়া। একটি ভ্লগের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সায়ক অভিযোগ করেন, তাঁকে গোমাংস পরিবেশন করা হয়েছে। এরপরই অলি পাবের এক বেয়ারার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় মামলা রুজু হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁ কর্মী শেখ নাসির উদ্দিন। আদালতে তোলা হলেও ওই দিনই তাঁর জামিন মেলেনি বলে জানা যায়।
এদিকে বিতর্কের মধ্যেই সায়ক নিজেও সমালোচনার মুখে পড়েন। সোশাল মিডিয়ায় বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। শনিবার রাতেই নাট্যব্যক্তিত্ব জয়রাজ ভট্টাচার্য পার্ক স্ট্রিট থানায় সায়কের বিরুদ্ধে ‘দাঙ্গায় উসকানি দেওয়া’র অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই আবহেই রবিবার অলি পাব তাদের অফিসিয়াল সোশাল মিডিয়া পেজে একটি বিবৃতি জারি করে। সেখানে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলের’ জন্য ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয় এবং কোনও গ্রাহকের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না বলে স্পষ্ট করা হয়। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
অলি পাবের ক্ষমা চাওয়ার পরই সায়ক চক্রবর্তী ঘোষণা করেন, তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করছেন। একটি পোস্টে সায়ক লেখেন, “অলি পাব ক্ষমা চেয়েছে। তাই আর অন্য গল্প বানানোর দরকার নেই। রাগের মাথায় থানায় গিয়েছিলাম, সেটা ঠিক। হতে পারে আমার রিঅ্যাকশনও ভুল ছিল।” তিনি আরও জানান, তিনি কোনওদিন গোমাংস খাননি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন।
অভিনেতার সংযোজন, তাঁর কোনও ধর্মীয় বিভেদ নেই এবং তিনি কেবল নিজের কিছু ‘আচার’ মেনে চলতে চান। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই সিদ্ধান্ত কি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নাকি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেই এমন পদক্ষেপ? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সোশাল পাড়া।





