খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৬ ফেব্রুয়ারিঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘিরে রাজ্যজুড়ে তুমুল উৎসাহের ছবি ধরা পড়ল আবেদন শুরুর প্রথম দিনেই। পাহাড় থেকে সাগর—গোটা বাংলায় আয়োজিত স্বনির্ভর বাংলা শিবিরগুলিতে উপচে পড়া ভিড়। আবেদনকারীদের সিংহভাগই ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতী। প্রকল্পের আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতেই সকাল থেকেই শিবিরে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে আয়োজিত ৭৬৯টি শিবিরে প্রথম দিনেই পা রেখেছেন ৬ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষ। তার মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার আবেদনই ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের জন্য। তুলনামূলকভাবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে আবেদন পড়েছে প্রায় ৩১ হাজার এবং খেতমজুরদের আর্থিক সহায়তার জন্য জমা পড়েছে সাড়ে ৩৬ হাজার আবেদন। অর্থাৎ মোট আবেদনের প্রায় ৯০ শতাংশই যুবসাথী প্রকল্পে যা এই উদ্যোগের জনপ্রিয়তাকেই স্পষ্ট করছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দিতে এপ্রিল মাস থেকে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে রবিবার থেকে, যা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
আবেদন করতে হলে জমা দিতে হচ্ছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিট, ব্যাঙ্কের পাশবইয়ের প্রতিলিপি এবং দু’কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। শিবিরে আবেদন জমা পড়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা তা সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে আপলোড করছেন। দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ গিয়েছে নবান্ন থেকে।
বিভিন্ন জেলায় জেলাশাসক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি কাউন্সিলর, বিধায়ক ও মন্ত্রীদেরও শিবির পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সহায়তা করেছেন। তবে কিছু কিছু শিবিরে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতিও তৈরি হয়, যা সামাল দিতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রথম দিনেই বিপুল সাড়ায় স্পষ্ট ‘যুবসাথী’ প্রকল্প রাজ্যের যুব সমাজের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন নজর দ্রুত যাচাই ও বাস্তবায়নের দিকে।





