নন্দীগ্রাম, ১৪ আগস্টঃ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নামানোর প্রস্তাব দিয়েছিল ঋতব্রত শিবির। বার্তা ছিল স্পষ্ট মুখোমুখি লড়াই হোক। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করল না ‘কালীঘাট তৃণমূল’। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতার বদলে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করল তারা। আর প্রার্থী ঘোষণার পরেই উঠছে অন্য প্রশ্ন কেন সঞ্চিতা?
শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় এক সময় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। সেই মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে চাকরি ফিরে পান সঞ্চিতা। সেই অতীতই এখন নন্দীগ্রামে তাঁর প্রার্থী হওয়াকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে।
প্রায় চল্লিশের সঞ্চিতা পেশায় বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। নন্দীগ্রামের বয়াল-২ এলাকায় তাঁর বাড়ি ছিল, যে এলাকা এক সময় তৃণমূলের প্রয়াত নেতা পবিত্র করের বুথ হিসাবেও পরিচিত ছিল। বর্তমানে অবশ্য তমলুকে থাকেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় মুখকে সামনে আনার কৌশলেই কি সঞ্চিতাকে বেছে নেওয়া? রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, নন্দীগ্রামের মাটি ও সংগঠনের সঙ্গে তাঁর পুরনো যোগাযোগই প্রার্থী নির্বাচনে গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর তরফে প্রকাশ্যে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।
নন্দীগ্রাম অবশ্য শুধু একটি উপনির্বাচন নয়। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরেও জয়ী হওয়ায় নিয়ম মেনে একটি আসন ছাড়তে হয় তাঁকে। নিজের পুরনো গড় নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার পরই সেখানে উপনির্বাচন ঘোষণা হয়। ভোট ৬ অক্টোবর।
তার উপর তৃণমূল এখন দ্বিখণ্ডিত। এক দিকে মমতাপন্থী ‘কালীঘাট তৃণমূল’, অন্য দিকে ঋতব্রতপন্থী শিবির, যারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে। প্রতীক নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই নন্দীগ্রামের ভোট তাই হয়ে উঠেছে দুই শিবিরের শক্তিপরীক্ষাও।
মমতা প্রার্থী হলে লড়াই থেকে সরে থাকার বার্তা দিয়েছিল ঋতব্রত শিবির। শেষ পর্যন্ত মমতা নামলেন না। এখন সঞ্চিতার সামনে চ্যালেঞ্জ নন্দীগ্রামে ফের ঘাসফুল ফোটানো। আর রাজনৈতিক প্রশ্নটি আরও বড় মুখোমুখি লড়াই এড়িয়ে কি কৌশলী পদক্ষেপ নিল কালীঘাট, নাকি সঞ্চিতার স্থানীয় পরিচয়েই বাজি ধরল তারা?





