কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ পুরভোটের আগে সংগঠনের ‘প্রচারযন্ত্রে’ বড়সড় বদল। মুখপাত্রের তালিকা থেকে শুরু করে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া এবং আইটি সেল বঙ্গ বিজেপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করল দল। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, দীর্ঘ সময় পর মুখপাত্রের দায়িত্বে ফিরলেন সায়ন্তন বসু ও কেয়া ঘোষ। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা সপ্তর্ষি চৌধুরীকেও মুখপাত্র করা হয়েছে। ফলে পুরভোটের আগে দলের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে পুরনো অভিজ্ঞতা ও নতুন মুখের মিশেলেই এগোতে চাইছে পদ্মশিবির।
নতুন তালিকায় মুখ্য মুখপাত্র করা হয়েছে দেবজিৎ সরকারকে। মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছেন রীতেশ তিওয়ারি, প্রণয় রায়, ড. তন্ময় মুখোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওফেলিয়া সিংহ, অঙ্কন দত্ত, মেঘা সেন রায়, নিখিলপ্রসাদ সিংহ এবং শমীক দাসগুপ্ত। দীর্ঘদিন পর সায়ন্তন-কেয়াদের প্রত্যাবর্তন তাই সংগঠনের অন্দরে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুধু মুখপাত্র নয়, গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থাতেই বদল আনা হয়েছে। মিডিয়া বিভাগের কনভেনরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুপম ঘোষকে। সহ-আহ্বায়ক পার্থসারথী চৌধুরী ও চন্দ্রশেখর বসুটিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ার আহ্বায়ক হয়েছেন উপমন্যু ভট্টাচার্য। সহ-আহ্বায়ক প্রীতম ভট্টাচার্য ও ক্যামেলিয়া সান্যাল।
আইটি বিভাগের আহ্বায়ক পদে থাকছেন জয় মল্লিক। তাঁর সঙ্গে সহ-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রত্নেশ সিং, রামজ্যোতি সরকার, শুভজিৎ কর্মকার এবং সব্যসাচী রায়।
২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বাংলায় ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন পূরণ হয়নি বিজেপির। সেই সময় দলের হয়ে প্রকাশ্য ময়দানে সক্রিয় ছিলেন সায়ন্তন, কেয়াদের মতো নেতারা। পরবর্তী সময়ে ‘আদি-নব্য’ দ্বন্দ্বের আবহে দলের একাংশের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ২০২৬-এ ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
নতুন তালিকায় সেই বার্তারই প্রতিফলন দেখছেন দলের অনেকে। পুরভোটের লড়াইয়ে সংগঠনের পাশাপাশি মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রচারকে আরও ধারালো করতেই এই পুনর্বিন্যাস কি না, এখন নজর সেদিকেই।





