বসিরহাট, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের ফল ঘোষণার দিন রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ। তার পর মৃত্যু, দেহ সমাধিস্থ। পাঁচ বছর কেটে যাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সেই সমাধিই ফের খোঁড়া হল। উদ্ধার করা হল বিজেপি কর্মী আস্তিকচন্দ্র দাসের দেহাবশেষ। ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে তা। ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সন্দেশখালি এলাকায়।
বসিরহাটের ন্যাজাট থানার কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝনঝনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন আস্তিকচন্দ্র। পরিবারের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাজনৈতিক হামলার শিকার হন তিনি। সে সময় এলাকায় তৃণমূলের বিজয় মিছিল চলছিল। নিরঞ্জনের মোড়ের কাছে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
মৃতের ছেলে সুব্রত দাসের দাবি, কোমরের বেল্ট, লোহার রড এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর বাবাকে মারধর করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে তিনি পাশের পুকুরে পড়ে গেলে সেখান থেকেও তুলে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের আরও দাবি, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল।
অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত গ্রামের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ এনে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলেছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে কয়েক দিন পর, ১০ মে আস্তিকচন্দ্রের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত করানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি। বরং তৎকালীন পুলিশি চাপের মুখে দেহ সমাধিস্থ করতে বাধ্য হয়েছিল পরিবার। থানায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি তাঁদের।
রাজ্যে পালাবদলের পর ফের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় পরিবার। আদালতের নির্দেশে অবশেষে পাঁচ বছর পর শুরু হয় সমাধি খুঁড়ে দেহাবশেষ উদ্ধারের প্রক্রিয়া। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেও মৃত্যুর কারণ-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে তদন্তের আশায় পরিবার। প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতে প্রয়োজনে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানাবে বলে জানিয়েছে তারা।





