কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ পুজোর আগে কি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন এনসিপিআইয়ের ১৭ সাংসদ? কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার এমন দাবিকে ঘিরে যখন বঙ্গ রাজনীতিতে জোর চর্চা, তখনই তা কার্যত উড়িয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলেই যে কাউকে দলে নেওয়া হবে, এমন কোনও কথা নেই। বরং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের উপর কী ধরনের ‘অত্যাচার’ হয়েছিল, তা ভুলে গেলে চলবে না। শমীকের কটাক্ষ, ‘‘তাঁরা যে বিজেপিতে যোগদান করতে চাইছেন, সেটা হয়তো মঙ্গল গ্রহের বিজেপি।’’
আজ সকালে জগদীশ দাবি করেছিলেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন পুজোর আগে অথবা পরে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন। তিন সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান বিজেপিতে যাবেন না। তাঁরা এনসিপিআইতেই থেকে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জগদীশের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল ছাড়ার পর ওই সাংসদদের একাংশ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিন সংখ্যালঘু সাংসদ বিজেপিতে যেতে রাজি না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে এনসিপিআই গঠনের পথে যাওয়া হয়। দলত্যাগ-বিরোধী আইন এড়াতেই বিজেপির পরামর্শে তাঁরা ওই দলে যোগ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন কোচবিহারের সাংসদ।
তবে এই দাবি ঘিরেই বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এক দিকে তৃণমূল থেকে আসা সাংসদদের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দলের পুরনো কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, অন্য দিকে সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ছে।
এই আবহেই শমীকের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর বক্তব্যে যেমন পুরনো বিজেপি কর্মীদের আবেগের জায়গাটি উঠে এসেছে, তেমনই জগদীশের দাবির সত্যতা নিয়েও স্পষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে পুজোর আগে এনসিপিআই সাংসদদের ‘ঘরবদল’ হবে কি না, এখন নজর সেদিকেই।





