কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতারির পর এবার জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতারা। সোমবার আলিপুর আদালতে জামিন মঞ্জুর হল কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাস, প্রদীপ প্রসাদ এবং আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের। আদালত থেকে বেরিয়ে কংগ্রেস নেতাদের দাবি, “সত্যের জয় হয়েছে।”
দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ভবানীপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল কংগ্রেস। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভের সময় মধ্যপ্রদেশের ওই তরুণ সন্ন্যাসীর ছবি পোড়ানো হয়। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ঘটনায় অতনু দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালত তাঁকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছিল।
এর পরেই মামলায় নাম জড়ায় দলের আরও দুই নেতা আশুতোষ ও প্রদীপের। রবিবার তাঁদের ভবানীপুর থানায় তলব করা হয়েছিল। হাজিরা দিয়ে তাঁরা অবশ্য ছবি পোড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, থানার সামনে মূল বিক্ষোভে তাঁরা ছিলেন। কিন্তু ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তাঁদের কোনও ভূমিকা ছিল না।
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ যখন শেষের দিকে, তখন একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আরও কিছু বিক্ষোভের ফুটেজ চেয়েছিলেন। সেই কথা শুনে দলের কয়েক জন কর্মী অন্য দিকে গিয়ে ফের বিক্ষোভ দেখান। সেখানেই বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানো হয় বলে তাঁদের দাবি। পরে ওই ঘটনায় তাঁদেরও জড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আশুতোষ ও প্রদীপ।
এ দিন আলিপুর আদালতে তিন নেতার জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর রাজনৈতিক তরজাও নতুন মাত্রা পেল। কংগ্রেসের বক্তব্য, প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালতের সিদ্ধান্তে তারই পাল্টা বার্তা মিলেছে। অন্য দিকে, পুলিশের অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টি এখনও মামলার অংশ।
দুর্গাপুজোয় আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত এবার পৌঁছেছে আদালতের দরজায়। জামিন মিললেও মামলা এখানেই শেষ হচ্ছে না। বরং বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, তা আরও কিছু দিন চলারই ইঙ্গিত মিলছে।





