খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে বিজেপির অন্দরেই অসন্তোষ চরমে। সেই ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে ফেটে পড়ল সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বলাগড়, বাদুড়িয়া-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান দলের নেতা-কর্মীরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বিক্ষোভের সময়ই শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করছিলেন। ফলে এই বিক্ষোভ ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।
বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সুমনা হালদারকে। পাশাপাশি হুগলির বলাগড়ে সুমনা সরকারকেও প্রার্থী করা হয়েছে। এই দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সুমনা হালদার আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পঞ্চায়েত ভোটের সময় তাঁর নির্দেশে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। তাই তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ দলের একাংশ।
শুধু বলাগড় নয়, বসিরহাট, মিনাখাঁ-সহ একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব হয়েছেন কর্মীরা। কখনও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, আবার কখনও দলীয় দপ্তরে ভাঙচুরের মতো ঘটনাও সামনে এসেছে।
এর আগেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল হিঙ্গলগঞ্জে। সেখানে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র-কে ‘বহিরাগত’ বলে দাবি করে স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি ছিল, ওই কেন্দ্রে ‘ভূমিপুত্র’কেই প্রার্থী করতে হবে। রবিবারের সেই বিক্ষোভের রেশ মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকে।
এই পরিস্থিতিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। দলের নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর মন্তব্য, “আগে ঘর সামলান, তারপর বাংলা ভাবুন।”
যদিও এই বিক্ষোভ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের আগে দলের অন্দরের এই অসন্তোষ যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, তা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রার্থী বদলের দাবিতে সল্টলেকে বিজেপি দপ্তরে বিক্ষোভ, চাপে বিজেপি নেতৃত্বরা
---Advertisement---





