কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ দলবদলের পর শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সংসদেও বদলে গেল ঠিকানা। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে গড়ে ওঠা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) এবার লোকসভায় পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতির পথে বড় পদক্ষেপ করল। নতুন সংসদ ভবনে দলের জন্য বরাদ্দ হল আলাদা কার্যালয় ও পৃথক আসন। ফলে এই প্রথম লোকসভায় স্বাধীন সংসদীয় দল হিসেবে বসবেন এনসিপিআইয়ের সাংসদরা।
সোমবার বিকেলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। সূত্রের খবর, আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে সংসদে দলের সাংগঠনিক ও সংসদীয় মর্যাদা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
দলের অন্দরের সমীকরণও প্রায় চূড়ান্ত। সূত্রের দাবি, লোকসভায় এনসিপিআইয়ের দলনেতা হচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন তৃণমূল সংসদীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েই তাঁর উপর এই দায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম প্রায় নিশ্চিত। উপদলনেতার দায়িত্ব পেতে পারেন বীরভূমের চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায়।
আগামী ২০ জুলাই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগের দিন, ১৯ জুলাই, দলের সাংসদদের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। একই দিনে কেন্দ্রের ডাকা সর্বদল বৈঠকেও প্রথমবারের মতো পৃথক দল হিসেবে অংশ নেবে এনসিপিআই।
স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সুদীপ বলেন, “সংসদে আমাদের সাংগঠনিক ও সংসদীয় অধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্পিকার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আগামী অধিবেশনে আমরা পূর্ণ শক্তিতেই অংশ নেব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল ভেঙে বেরিয়ে আসা ২০ জন সাংসদকে নিয়ে গঠিত এনসিপিআইয়ের সংসদে পৃথক পরিচয় পাওয়া শুধু সাংগঠনিক স্বীকৃতিই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লোকসভায় শাসক জোটের বেঞ্চেই বসার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও কোন সাংসদ কোথায় বসবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় নেতৃত্ব। বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই সেই ছবিও স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





